৫০ বছর পর বাংলাদেশে আর থাকবে না শীত !

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্ব ক্রমশ উষ্ণ হয়ে উঠছে। আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে দেশের শীত ঋতুর ওপর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ বছর পর এই অঞ্চলের প্রকৃতি থেকে শীত ঋতু উধাও হয়ে যাবে।

আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমেই শীত ঋতুর ব্যাপ্তি কমে আসছে। এই ঋতুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ৮০ থেকে ১শ’ভাগ পর্যন্ত কম হচ্ছে। গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়ছে। ২০৩০ সালে তাপমাত্রা বাড়ার হার প্রধানত দেখা দেবে শীতের মাসগুলোতে।

ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অব ক্লাইমেট চেঞ্জ আইপিসিসি বা জলবাযু বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেলের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরইমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করছে। প্রায় সব ঋতুতে এর প্রভাব পাওয়া যাচ্ছে।

জাতিসংঘের এই বিজ্ঞানী প্যানেল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, মানুষের নানা কর্মকা’ন্ডের পরিণতিতে অ’তীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন দ্রুত হারে সাগর পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং বরফ গলছে। বরফ গলা পানি গিয়ে পড়ছে সাগরে।

আইপিসিসির নতুন এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাগরে তাপ বাড়ার ফলে আবহাওয়া দিনকে দিন বিপজ্জনক আচরণ করবে। সামুদ্রিক ঝড় বেশি হবে, জলোচ্ছ্বাস বাড়বে।

আবহাওয়া অফিসের সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীতকালে স্বাভাবিক তাপমাত্রা বাড়ছে। শীতকালে (ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে) যেখানে স্বাভাবিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ধ’রা হয়েছে ২৫.৪ ও ২৬.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.২ ও ১২.৪ ডিগ্রী। দেখা গেছে, এই তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব বাংলাদেশে শীতের ওপর পড়ছে। ফলে শীতকালের ব্যাপ্তি কমছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানে পৌষ-মাঘ এই দুই মাসকে শীত ঋতু ধ’রা হলেও ঋতু বৈচিত্র্যের ধরণ অনুযায়ী প্রকৃতিতে অনেক আগেই শীতের আনাগোনা শুরু হয়।

শীতের এই বৈশিষ্ট্যে এখন আর নেই। ভরা মৌসুমেও শীতের জন্য অ’পেক্ষা করতে হয়। শীতকালে তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে শীতের ফসল উৎপাদনের ওপর এর প্রভাব পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আগামীতে জলবায়ু পরিবর্তনকে কখনও উচ্চ তাপমাত্রা, প্রচুর বৃষ্টিপাত, কখনও অ’তিরিক্ত আর্দ্রতা এবং ঋতুভিত্তিক ভিন্নতা ইত্যাদি বিষয় দ্বারা সহ’জেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপমাত্রা বাড়ার হার প্রধানত শীতের মাসগুলোতেই বেশি পরিলক্ষিত হবে। আগামীতে শীত শুষ্ক মৌসুমে পরিণত হবে।

এ ঋতুতে বৃষ্টিপাত প্রায়ই হবে না। উষ্ণতা বাড়বে, দেখা দেবে খরা। শীতের মাত্রাও আস্তে আস্তে কমে আসবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শীতকালেই বেশি স্পষ্ট হবে।

গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৭০ সালের শীত, গ্রীষ্ম ঋতুতে বাষ্পীভবনের অনেক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় উঠে এসেছে, এ পরিবর্তনের ফলে বর্ষাকালে অ’তিরিক্ত বৃষ্টিপাত হবে। যার ফলে ব্যাপক ব’ন্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে শীতকালে বৃষ্টিপাত প্রায় হবেই না। ফলে শীতকাল শুষ্ক ও খরা মৌসুমে পরিণত হবে।

অবশ্য এতে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমা’র হার হবে নগণ্য। কিন্তু ২০৭৫ সালে শীতকালে বৃষ্টিপাত প্রায় হবেই না।

আবহাওয়া অধিদফতরের হিসাবে দেখা গেছে, গত ৫০ বছরে দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার শতকরা ০.৫।

ধারণা করা হচ্ছে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের তাপমাত্রার গড় ১.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং ২১শ’ সাল নাগাদ ২.৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়বে। তাপমাত্রা বাড়ার এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রকৃতি থেকে শীত ঋতু উধাও হয়ে যাবে।

শক্তিশালী হলো বাংলাদেশের পাসপোর্ট, ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৪১টি দেশে ভ্রমণ সুবিধা

বাংলাদেশের পাসপোর্ট- বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক ২০১৯–এর তালিকায় বাংলাদেশ এগিয়েছে। গত বছরের তুলনায় ৩ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বে ৯৭তম। ভিসা ছাড়া শুধু পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশ গমনের ওপর জরিপের ভিত্তিতে এ র‌্যাঙ্কিং করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নাগরিকত্ব ও পরিকল্পনাবিষয়ক সংস্থা হ্যানলি অ্যান্ড পাসপোর্ট পার্টনার্সের সম্প্রতি করা পাসপোর্ট ইনডেক্স থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশের সঙ্গে ৯৭তম স্থানে আছে লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান। কোনো দেশের পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী, তা নির্ভর করে ওই পাসপোর্ট দিয়ে কতটি দেশে ভিসা ছাড়াই যাওয়া যায় তার ওপর। ভিসা ছাড়া যাওয়া বলতে বোঝায় ‘অন অ্যারাইভাল ভিসা’। অর্থাৎ, অগ্রিম ভিসা না করে শুধু টিকিট কেটে অন্য দেশে চলে যাওয়া যায়। সেই দেশে ভিসার যাবতীয় কাজ সারা হয়। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই বিশ্বের ৪১টি দেশে ভ্রমণ সুবিধা পান। দেশগুলো হলো এশিয়ার ভুটান, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং পূর্ব তিমুর। আফ্রিকার বেনিন, কেপ ভার্দে আইসল্যান্ড, কোমোরেস, দি জিবুতি, গাম্বিয়া, ঘানা, কেনিয়া লিসোথো, মাদাগাস্কার, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সিশিলিস, সোমালিয়া, টোগো, উগান্ডা। ওশেনিয়ার কুক আইসল্যান্ড ফিজি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউয়ি, সামোয়া, ট্রুভালু, ভানুয়াতু। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বাহামা, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইসল্যান্ড, ডোমেনিকা, গ্রানাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসারাত, সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস, সেন্ট ভেনিস এন্ড গ্রানাডিস, ত্রিনিদাদ ও টোবাকো এবং আমেরিকায় বলিভিয়া। এর মধ্যে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা ২০টি দেশে। বিশ্বের ১৮৫টি দেশে যেতে ভিসা প্রয়োজন হয় বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের।

২০১৮ সালের বৈশ্বিক পাসপোর্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৫ ধাপ পিছিয়ে ১০০ ধাপে ছিল বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে তালিকায় ছিল ৯৫তম অবস্থানে। বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর মধ্য ভারত ৭৯তম (ভিসা ফ্রি ৬১ দেশ), পাকিস্তান ১০২তম (ভিসা ফ্রি ৩৩ দেশে), শ্রীলঙ্কা ৯৫তম (ভিসা ফ্রি ৪৩ দেশ), নেপাল ৯৮তম (ভিসা ফ্রি ৪০ দেশ), মিয়ানমার ৯০তম (ভিসা ফ্রি ৪৮ দেশে) অবস্থানে আছে। ৩০টি দেশে ভিসা ফ্রি সুবিধা নিয়ে তালিকার সর্বনিম্ন স্থানে রয়েছে ইরাক ও আফগানিস্তান। তালিকার শীর্ষে থাকা জাপানের পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী। ১৯০ দেশে ভিসা-ফ্রি এবং অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাচ্ছেন জাপানোর পাসপোর্টধারীরা। জাপানের পরই দ্বিতীয় স্থানে আছে সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাসপোর্ট। এই দুই দেশের পাসপোর্টধারীরা ভিসা-ফ্রি এবং অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাচ্ছেন ১৮৯টি দেশে। ফ্রান্স ও জার্মানি আছে তৃতীয় স্থানে। ১৮৮ দেশে ভিসা-ফ্রি এবং অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাচ্ছেন এই দুই দেশের পাসপোর্টধারীরা। এর পরই আছে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইতালি ও সুইডেন। ১৮৭ দেশে ভিসা-ফ্রি এবং অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পান এই চার দেশের পাসপোর্টধারী নাগরিকেরা। লুক্সেমবার্গ ও স্পেন আছে পঞ্চম স্থানে। এই দুই দেশের পাসপোর্টধারী নাগরিকেরা ১৮৬ দেশে ভিসা-ফ্রি এবং অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা পাচ্ছেন।

সাকিব থাকবেন না যে ৩৬ ম্যাচে

দেশের হয়ে ৩৬টি ম্যাচ খেলতে পারবেন না সাকিব। ছবি: এএফপিদেশের হয়ে ৩৬টি ম্যাচ খেলতে পারবেন না সাকিব। ছবি: এএফপিসাকিব আল হাসানের এক বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী বছরের ২৯ অক্টোবর। এই সময়ের মধ্যে ৩৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। সাকিব খেলতে পারবেন না ১৩টি টেস্ট,৩টি ওয়ানডে ও ২০টি টি-টোয়েন্টি। একনজরে দেখে নেওয়া যাক সেসব ম্যাচ-

নভেম্বর ২০১৯
বাংলাদেশের ভারত সফর
৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ
২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ

ডিসেম্বর ২০১৯
কোনো সংস্করণেই বাংলাদেশের কোনো খেলা নেই

জানুয়ারি ২০২০ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২০
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২ টেস্ট ও ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ

মার্চ ২০২০
জিম্বাবুয়ের বাংলাদেশ সফর
একটি টেস্ট ও ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ

এপ্রিল ২০২০
কোনো সংস্করণেই বাংলাদেশের কোনো খেলা নেই

মে ২০২০-জুন ২০২০
বাংলাদেশের আয়ারল্যান্ড সফর
একটি টেস্ট,৩টি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি

অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফর
দুটি টেস্ট (জুন মাসে)

জুলাই ২০২০
বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর
৩ টেস্টের সিরিজ

আগস্ট ২০২০
নিউজিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফর
২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ

সেপ্টেম্বর ২০২০
কোনো সংস্করণেই বাংলাদেশের কোনো খেলা নেই

অক্টোবর ২০২০
বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফর
৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ
অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

আরও পড়ুন

ম্যাচ না পাতিয়েও কেন শাস্তি পেলেন সাকিব
সাকিবকে যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন ভারতীয় জুয়াড়ি
সাকিবের ওপর রাগই হয়েছে বিসিবি সভাপতির
নিজের ভুলে দুঃখিত সাকিব
সাকিবের দায় স্বীকার, দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা
সাকিব আরও শক্ত হয়েই ফিরবেন, বলছেন শিশির
দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা এড়াতে যা করতে হবে সাকিবকে
সাকিবের নেতৃত্বে-ই ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ: মাশরাফি
কেন এই ভুল করলেন সাকিব

নিষেধাজ্ঞায় সাকিব;

 

নিষেধাজ্ঞায় সাকিব; কে কী বললেন?

দুই বছর আগে ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব পেয়েছিলেন জুয়াড়িদের কাছ থেকে। কিন্তু তা গোপন রেখেছিলেন আইসিসির অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটের (আকসু) কাছে। এ তথ্য গোপন করার অভিযোগে টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে সব ধরনের ক্রিকেটে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার শাস্তি পেয়েছেন আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালার তিনটি আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে। বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সব কটি দায় মেনে নিয়েছেন। যদি নিষেধাজ্ঞার সময় শাস্তির সব বিধিনিষেধ মেনে চলেন, তাহলে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন সাকিব।

এদিকে, সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পাশাপাশি ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও। টাইগার অলরাউন্ডারের শাস্তির বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে সামাজিক মাধ্যমে।

সাকিবের স্ত্রী শিশির তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, কিংবদন্তিরা রাতারাতি তৈরি হয়ে যায় না। বরং একটু একটু করে গড়ে ওঠে। জীবনে উত্থান পতন আসবেই। তবে সেসব পেছনে ফেলে সাকিব ফিরে আসবে, সেটা এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা।সাকিবের নিষেধাজ্ঞার খবরে ভেঙে পড়েছেন তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ মুশফিকুর রহিম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মুশফিকুর রহিম ২০১২ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অল্পের জন্য হেরে যাওয়ার পর সাকিবকে জড়িয়ে ধরে কান্নার সেই মুহূর্ত পোস্ট করে লিখেছেন, বয়স ভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একসঙ্গে ১৮ বছর খেলার পর…, মাঠে তোমাকে ছাড়া খেলার কথা ভাবা খুবই কষ্টদায়ক। আশা করি, তুমি চ্যাম্পিয়নের মতো ফিরে আসবে। তোমার প্রতি আমার এবং পুরো বাংলাদেশের সমর্থন রয়েছে। ভেঙে পড়ো না, ইনশাল্লাহ।

বাংলাদেশের অন্যতম সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সাকিবকে নিয়ে করেছেন আবেগঘন এক টুইট। সেই টুইট বার্তায় তিনি বলেছেন, দীর্ঘ ১৩ বছরের সহযোদ্ধার আজকের ঘটনায় নিশ্চিতভাবেই কিছু বিনিদ্র রাত কাটবে আমার। তবে কিছুদিন পর এটা ভেবেও শান্তিতে ঘুমাতে পারব যে, তার নেতৃত্বেই ২০২৩ সালে আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলব। কারণ নামটি তো সাকিব আল হাসান…!

ভারতীয় ক্রীড়া সাংবাদিক বরিয়া মজুমদায় পুরোপুরি পক্ষ নিয়েছেন সাকিবের। তার মত, সাকিব যেহেতু ফিক্সিংয়ের সাথে জড়ায়নি, তাই শাস্তিটা আরো কমিয়ে দেয়াই যেত। পাকিস্তানি ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজা মনে করেন, সাকিবের এই ঘটনা বাকিদের জন্য শিক্ষা, নিজেকে যেন কেউ গোটা ক্রিকেটের চেয়ে বড় মনে না করে।

এ প্রসঙ্গে অবশ্য বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের ধারাভাষ্যকার স্কট স্টাইরিশ। তার মত, সাকিব যে অপরাধ করেছে তার জন্য অন্তত দুই বছর তাকে খেলার বাইরে রাখা উচিত ছিল।

সাবেক ক্রিকেটার মাইকেল ভন অবশ্য লিখেছেন আরেকটু বেশি তেতো কথা। তার মতে সাকিবকে কোনোভাবেই সমবেদনা জানানোর সুযোগ নেই। আইসিসির এই নিয়ম নিয়ে সব পর্যায়ের ক্রিকেটারদের ভালোভাবেই ব্রিফ করা হয়। তাই সাকিব যা করেছে সেটার জন্য দুই বছরের সাজা মোটেও যথেষ্ট নয়।

 

রহস্যময় ব্যাগ থেকে যা বেরোল

  মোঃ ইলিয়াছ মিয়া ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২১

বোমা সন্দেহে রাতভর ব্যাগটি ঘিরে রাখা হয়। ছবি: আনোয়ার হোসেনময়মনসিংহ নগরের পাটগুদাম ব্রিজমোড় বাস টার্মিনাল এলাকায় গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে একটি লাল রঙের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। ব্যাগটি নিতে কেউ না আসায় সন্ধ্যার দিকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বোমা সন্দেহে কড়া নিরাপত্তায় রাতভর ব্যাগটি পাহারা দেয় পুলিশ। আজ সোমবার সকালে পুলিশের বোমা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে যায়। ব্যাগ খুলে মানুষের হাত-পা কাটা মৃতদেহ পাওয়া যায়।

লাশটি পুরুষের। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, পাটগুদাম বাস টার্মিনাল এলাকার একজন ব্যবসায়ী গতকাল বেলা ১১টার দিকে লাল রঙের একটি ট্রলি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। দিনভর ব্যাগটি পড়ে থাকার পর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগটির ভেতর খুব ভারী কিছু আছে বলে সন্দেহ করে। পরে বোমা সন্দেহে ব্যাগটি ঘিরে রাখে পুলিশ। আজ সকালে পুলিশের বিশেষজ্ঞ দল ব্যাগটি খুলে দেখে, ভেতর চার স্তরে পলিথিন মোড়ানো কিছু রয়েছে । পলিথিন সরিয়ে হাত-পা কাটা একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়, যা পুরুষের।

পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এটি খুব ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড। পুলিশ এ ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে ব্যাগটিতে মাছি বসতে শুরু করে। এতে অনেকের সন্দেহ হয় ব্যাগটিতে মানুষের লাশ থাকতে পারে। পাটগুদাম বাস টার্মিনাল এলাকা ময়মনসিংহ নগরের ব্যস্ততম এলাকা। গতকাল সন্ধ্যা থেকে ব্যাগটি ঘিরে ছিল উৎসাহী মানুষের ভিড়।

যমুনার পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপরে

 মোঃ ইলিয়াছ মিয়া,
প্রতিষ্ঠাতা- https://henetwork.home.blog/

যমুনা নদীর পানি বগুড়ায় বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রৌহদহ , সারিয়াকান্দি, বগুড়া, ১৪ জুলাই। ছবি: সোয়েল রানাযমুনা নদীর পানি বগুড়ায় বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রৌহদহ , সারিয়াকান্দি, বগুড়া, ১৪ জুলাই। ছবি: সোয়েল রানাউজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বর্ষণে বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৪০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। আজ রোববার সকাল ছয়টায় যমুনার পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

এতে সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এবং দুর্গম চর প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে এলাকার হাজার হাজার মানুষ। পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়িতে। পানি যত বাড়ছে, পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগ তত বাড়ছে। তলিয়ে গেছে পাট, ধানসহ বহু আবাদি ফসল। পানি ঢুকে যাওয়ায় ২০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটছেন পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।

বগুড়ার পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, যমুনা নদীর সারিয়াকান্দি পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ১৬ দশমিক ৭০ সেন্টিমিটার। গতকাল শনিবার সকাল নয়টায় পানি ছিল ১৬ দশমিক ৬৭ সেন্টিমিটার। ২৪ ঘণ্টায় ৪০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে আজ সকাল নয়টায় ১৭ দশমিক ৭ সেন্টিমিটার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। আরও এক সপ্তাহ পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, যমুনার ঢলে সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি, হাটশেরপুর, কাজলা, কর্নিবাড়ি, বোহাইল, চন্দনবাইশা, কামালপুর ও কুতুবপুর ইউনিয়ন এবং সোনাতলা উপজেলার পাকুল্যা ও তেকানীচুকাইনগর ইউনিয়নের কমপক্ষে ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে পাট, আউশ ধানসহ বিস্তীর্ণ ফসলের খেত। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীতীরবর্তী এলাকায় দেখা দিয়েছে প্রবল ভাঙন।

দুর্ভোগে পড়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের চর ভাঙ্গুরগাছা, চরদলিকা, চর টবাড়ি, চর উচারপাড়া, চর টিয়ামারি, সুজনেরপাড়া, বিরামের পাচগাছি, বহুলাডাঙ্গা, শিমুলতাইর, হাটশেরপুর ইউনিয়নের চরচকনতিনাথ, দীঘাপাড়া, কাজলাচরের উত্তর ও দক্ষিণ বেনুপুর, জামথৈল, টেংরাকুড়া, পাকদহ, পাকুরিয়া, ঘাঘুয়ারচর, কর্নিবাড়ি ইউনিয়নের মূলবাড়ি, তালতলা, নান্দিনারচর,বানিয়াপাড়াচরের কয়েক শ বসতবাড়ি তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে হাজার একর খেতের ফসল। সোনাতলা উপজেলার খাবুলয়িারচর, সরলিয়াচর, ভিকনেরপাড়াচর, মহেশপাড়াচর, জন্তিয়ারচর এবং খাটিয়ামারিরচরের বসতবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে কৃষকের পাটসহ নানা ফসল। চাষিরা দ্রুত পাট কেটে নিচ্ছেন। পানিতে ডুবে যাওয়া এলাকার লোকজন উঁচু মাচান তৈরি করে রাত পার করেছেন।

চালুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, যমুনায় পানি বেড়ে যাওয়ায় তাঁর ইউনিয়নের সব কটি চর প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে হাজারো মানুষ।

পাকুরিয়ার চরের ইউপি সদস্য সাজাহান আলী বলেন, যমুনার ঢলে কৃষকের শত শত বিঘা জমির পাট তলিয়ে গেছে। উত্তর ও দক্ষিণ বেনুপুর, জামথৈল, টেংরাকুড়া, পাকদহ, পাকুরিয়া, ঘাঘুয়ারচরসহ দুর্গম এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

কর্নিবাড়ির ইউপির চেয়ারম্যান আজাহার আলী বলেন, তাঁর ইউনিয়নে মূলবাড়ি, তালতলা, নান্দিনারচর প্লাবিত হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি চর পানিতে ডুবে হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাঁর উপজেলার ছয়টি চর প্লাবিত হয়েছে।

যমুনার ঢলে প্লাবিত হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের রোহদহ, ইছামারা, চন্দনবাইশা, নিজ চন্দনবাইশা, ঘুঘুমারি, দক্ষিণ ঘুঘুমারি শেখপাড়া, ফকিরপাড়া, আকন্দপাড়া, শাকদহ, তালুকদারপাড়ার কয়েক শ বসতবাড়ি। এসব গ্রামের পানিবন্দী মানুষ মালামাল, গরু-বাছুর নিয়ে ছুটছেন নিরাপদ আশ্রয়ে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে।

কামালপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, যমুনার ঢলে কামালপুর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং চন্দনবাইশা ইউনিয়নের আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে শ্রেণিকক্ষ প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত এলাকার প্রায় ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেগুলো হলো রোহদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফকিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘুঘুমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ঘুঘুমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কেষ্টিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লক্ষীকোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫৪ কর্নিবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বয়রাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ময়ূরের চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ভাঙ্গুরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে করে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর পাঠ ক্ষতিগ্রস্ত পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল আলম বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বেশি ভাগই পাঠদান কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম। প্রায় ১৮টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি স্কুল মাদ্রাসার পাঠদানও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বগুড়া জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা (ডিআরআরও) আজহার আলী মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারিয়াকান্দিতে এক হাজার এবং সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় ৫০০ প্যাকেট করে শুকনো প্যাকেট খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলা ত্রাণ ভান্ডারে ৫০০ মেট্রিক টন চাল এবং তিন লাখ টাকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা–উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

এইচএম এরশাদ আর নেই

এইচএম এরশাদ আর নেই
এইচএম এরশাদ

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এইচএম এরশাদ আর নেই। রবিবার সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

আইএসপিআর-এর সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে এরশাদ সিএমএইচে মারা যান।

এর আগে ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়। ওই দিন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের জানান, এরশাদের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। এটি আমাদের কাছে শুভ লক্ষণ মনে হচ্ছে না। কিডনি যেভাবে কাজ করা কথা ছিল সেভাবে কাজ করছে না। তাকে বিদেশে নেয়ার অবস্থাও নেই।

আরও পড়ুন: কোচবিহার থেকে যেভাবে রংপুরের বাসিন্দা হলেন এরশাদ

এরশাদকে গত ২২ জুন সকালে হাসপাতালে ভর্তির পর কয়েকদিন অবস্থার দৃশ্যমান কিছুটা উন্নতি মনে হলেও গত রবিবার ভোর থেকে তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। তার ফুসফুসে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। ফুসফুসে পানি জমেছে, ফলে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। চিকিৎসকরা কৃত্রিম উপায়ে তাকে অক্সিজেন দিয়ে রেখেছিলেন।

মঙ্গলবার বিকাল থেকে এরশাদের প্রচণ্ড কাঁপুনি দিয়ে দফায়-দফায় জ্বর আসে। অবস্থা খারাপের দিকে গেলে বুধবার সকালে তাকে সিএমএইচের ক্রিটিক্যাল ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের কোচবিহার জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পরে তার পরিবার রংপুরে চলে আসে। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করেন তিনি। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করেন। এরশাদ ১৯৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬০-১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কেন্দ্রে অ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় পশ্চিম পাকিস্তানেই ছিলেন এরশাদ। পাকিস্তান থেকে আটকে পড়া বাঙালিরা যখন ১৯৭৩ সালে দেশে ফিরে আসে তখন তিনিও প্রত্যাবর্তন করেন। পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর ১৯৭৩ সালে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অ্যাডজুটান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে তিনি কর্নেল ও ১৯৭৫ সালের জুন মাসে সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি পান।

এরপর ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট ভারতে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তিনি মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান ও উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৭৮ সালের ডিসেম্বর মাসে এরশাদকে সেনাবাহিনীপ্রধান পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং ১৯৭৯ সালে তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন।

১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন এরশাদ। ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) হিসেবে দেশ শাসন করেন। এরপর তিনি রাষ্ট্রপতি আহসানউদ্দিন চৌধুরীকে অপসারণ করে ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। স্বৈরাচারবিরোধী প্রবল গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

১৯৯১ সালে জেনারেল এরশাদ গ্রেফতারর হন এবং তাকে কারাবন্দি করে রাখা হয়। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে জেলে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ছয় বছর জেলে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের আমলে তিনি জামিনে মুক্ত হন।

২০০১ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করেন তিনি। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল ২৭টি আসনে জয় লাভ করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আসন পায় ৩৪টি। এবার এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হন। ২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এরশাদ।

আমিরিকাতে কে কে প্রেসিডেন্ট ছিলেন তার তালিকা।

# রাষ্ট্রপতির নাম অফিসিয়াল পোর্ট্রেট কার্যদিবস শুরু কার্যদিবস শেষ রাজনৈতিক দল উপ-রাষ্ট্রপতি মেয়াদ
জর্জ ওয়াশিংটন Gilbert Stuart, George Washington (Lansdowne portrait, 1796).jpg এপ্রিল ৩০ ১৭৮৯ মার্চ ৪ ১৭৯৭ নির্দলীয় জন অ্যাডাম্‌স
জন অ্যাডাম্‌স Adamstrumbull.jpg মার্চ ৪ ১৭৯৭ মার্চ ৪ ১৮০১ ফেডারেলিস্ট
নির্দলীয়[২]
টমাস জেফারসন
টমাস জেফারসন Thomas Jefferson by Rembrandt Peale, 1800.jpg মার্চ ৪ ১৮০১ মার্চ ৪ ১৮০৯ ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান অ্যারন বিউর
জর্জ ক্লিনটন
জেমস ম্যাডিসন Jm4.gif মার্চ ৪ ১৮০৯ মার্চ ৪ ১৮১৭ ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান জর্জ ক্লিনটন[৩]
শূন্য
এলব্রিজ গ্যারি[৩]
শূন্য
জেমস মন্‌রো James Monroe White House portrait 1819.gif মার্চ ৪ ১৮১৭ মার্চ ৪ ১৮২৫ ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান ড্যানিয়েল ডি থম্পকিন্স
জন কুইন্সি অ্যাডাম্‌স John Quincy Adams by GPA Healy, 1858.jpg মার্চ ৪ ১৮২৫ মার্চ ৪ ১৮২৯ ডেমোক্রেটিক-রিপাবলিকান জন সি ক্যালৌন ১০
অ্যান্ড্রু জ্যাকসন Andrew Jackson.jpg মার্চ ৪ ১৮২৯ মার্চ ৪ ১৮৩৭ ডেমোক্রেটিক জন সি ক্যালৌন[৪]
শূন্য
১১
মার্টিন ভ্যান বিউরেন ১২
মার্টিন ভ্যান বিউরেন Martin Van Buren by George PA Healy, 1858.gif মার্চ ৪ ১৮৩৭ মার্চ ৪ ১৮৪১ ডেমোক্রেটিক রিচার্ড মেন্টর জনসন ১৩
উইলিয়াম হেনরি হ্যারিসন William Henry Harrison by James Reid Lambdin, 1835.jpg মার্চ ৪ ১৮৪১ এপ্রিল ৪ ১৮৪১[৩] হুইগ জন টাইলার ১৪
১০ জন টাইলার WHOportTyler.jpg এপ্রিল ৪ ১৮৪১ মার্চ ৪ ১৮৪৫ হুইগ
নির্দলীয়[৫]
শূন্য
১১ জেমস নক্স পোক James Knox Polk by GPA Healy, 1858.jpg মার্চ ৪ ১৮৪৫ মার্চ ৪ ১৮৪৯ ডেমোক্রেটিক জর্জ এম ডালাস ১৫
১২ জ্যাকারি টেইলর Zachary Taylor by Joseph Henry Bush, c1848.jpg মার্চ ৪ ১৮৪৯ জুলাই ৯ ১৮৫০[৩] হুইগ মিলার্ড ফিল্‌মোর ১৬
১৩ মিলার্ড ফিল্‌মোর Millard Fillmore White House portrait.png জুলাই ৯ ১৮৫০ মার্চ ৪ ১৮৫৩ হুইগ শূন্য
১৪ ফ্রাংক্‌লিন পিয়ের্স Franklin Pierce by GPA Healy, 1858.jpg মার্চ ৪ ১৮৫৩ মার্চ ৪ ১৮৫৭ ডেমোক্রেটিক উইলিয়াম আর কিং[৩]
শূন্য
১৭
১৫ জেমস বিউকানান Jb15.gif মার্চ ৪ ১৮৫৭ মার্চ ৪ ১৮৬১ ডেমোক্রেটিক জন সি ব্রেকিনরিজ ১৮
১৬ আব্রাহাম লিংকন Abraham Lincoln by George Peter Alexander Healy.jpg মার্চ ৪ ১৮৬১ এপ্রিল ১৫ ১৮৬৫[৬] রিপাবলিকান
ন্যাশনাল ইউনিয়ন[৭]
হ্যানিবাল হ্যামলিন ১৯
অ্যান্ড্রু জনসন ২০
১৭ অ্যান্ড্রু জনসন Andrew Johnson portrait.jpg এপ্রিল ১৫ ১৮৬৫ মার্চ ৪ ১৮৬৯ ডেমোক্রেটিক
ন্যাশনাল ইউনিয়ন[৭]
শূন্য
১৮ ইউলিসিস এস গ্রান্ট Ulysses S. Grant.jpg মার্চ ৪ ১৮৬৯ মার্চ ৪ ১৮৭৭ রিপাবলিকান শুইলার কোলফ্যাক্স ২১
হেনরি উইলসন[৩]
শূন্য
২২
১৯ রাদারফোর্ড বি হেইজ Daniel Huntington - Rutherford Birchard Hayes - Google Art Project.jpg মার্চ ৪ ১৮৭৭ মার্চ ৪ ১৮৮১ রিপাবলিকান উইলিয়াম এ হুইলার ২৩
২০ জেমস গারফিল্ড James Garfield portrait.jpg মার্চ ৪ ১৮৮১ সেপ্টেম্বর ১৯ ১৮৮১[৬] রিপাবলিকান চেস্টার এ আর্থার ২৪
২১ চেস্টার এ আর্থার Chester A Arthur by Daniel Huntington.jpeg সেপ্টেম্বর ১৯ ১৮৮১ মার্চ ৪ ১৮৮৫ রিপাবলিকান শূন্য
২২ গ্রোভার ক্লিভ্‌ল্যান্ড Grover Cleveland portrait2.jpg মার্চ ৪ ১৮৮৫ মার্চ ৪ ১৮৮৯ ডেমোক্রেটিক টমাস এ হেন্ড্রিক্স[৩]
শূন্য
২৫
২৩ বেঞ্জামিন হ্যারিসন Bharrison.png মার্চ ৪ ১৮৮৯ মার্চ ৪ ১৮৯৩ রিপাবলিকান লেভি পি মর্টন ২৬
২৪ গ্রোভার ক্লিভ্‌ল্যান্ড
(দ্বিতীয়বার)
Grover Cleveland, painting by Anders Zorn.jpg মার্চ ৪ ১৮৯৩ মার্চ ৪ ১৮৯৭ ডেমোক্রেটিক অ্যাডলাই ই স্টিভেনসন ২৭
২৫ উইলিয়াম ম্যাকিন্‌লি Official White House portrait of William McKinley.jpg মার্চ ৪ ১৮৯৭ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯০১[৬] রিপাবলিকান গ্যারেট হোবার্ট[৩]
শূন্য
২৮
থিওডোর রুজ্‌ভেল্ট ২৯
২৬ থিওডোর রুজ্‌ভেল্ট TRSargent.jpg সেপ্টেম্বর ১৪ ১৯০১ মার্চ ৪ ১৯০৯ রিপাবলিকান শূন্য
চার্লস ডব্লিউ ফেয়ারব্যাংক্‌স ৩০
২৭ উইলিয়াম হাওয়ার্ড ট্যাফ্‌ট্‌ Anders Zorn - Portrait of William Howard Taft (1911).jpg মার্চ ৪ ১৯০৯ মার্চ ৪ ১৯১৩ রিপাবলিকান জেমস এস শার্মান[৩]
শূন্য
৩১
২৮ উড্রো উইল্‌সন Ww28.jpg মার্চ ৪ ১৯১৩ মার্চ ৪ ১৯২১ ডেমোক্রেটিক থমাস আর মার্শাল ৩২
৩৩
২৯ ওয়ারেন জি. হার্ডিং Wh29.gif মার্চ ৪ ১৯২১ আগস্ট ২ ১৯২৩[৩] রিপাবলিকান ক্যালভিন কুলিজ ৩৪
৩০ ক্যালভিন কুলিজ CoolidgeWHPortrait.jpg আগস্ট ২ ১৯২৩ মার্চ ৪ ১৯২৯ রিপাবলিকান শূন্য
চার্লস জি ডয়েস ৩৫
৩১ হার্বার্ট হুভার Herbert Clark Hoover by Greene, 1956.jpg মার্চ ৪ ১৯২৯ মার্চ ৪ ১৯৩৩ রিপাবলিকান চার্লস কার্টিস ৩৬
৩২ ফ্রাংক্‌লিন ডি. রুজভেল্ট মার্চ ৪ ১৯৩৩ এপ্রিল ১২ ১৯৪৫[৩] ডেমোক্রেটিক জন ন্যান্স গার্নার ৩৭
৩৮
হেনরি এ. ওয়ালেস ৩৯
হ্যারি এস ট্রুম্যান ৪০
৩৩ হ্যারি এস ট্রুম্যান HarryTruman.jpg এপ্রিল ১২ ১৯৪৫ জানুয়ারি ২০ ১৯৫৩ ডেমোক্রেটিক শূন্য
অ্যালবেন বার্কলি ৪১
৩৪ ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ার Dwight D. Eisenhower, official Presidential portrait.jpg জানুয়ারি ২০ ১৯৫৩ জানুয়ারি ২০ ১৯৬১ রিপাবলিকান রিচার্ড নিক্সন ৪২
৪৩
৩৫ জন এফ কেনেডি John F Kennedy Official Portrait.jpg জানুয়ারি ২০ ১৯৬১ নভেম্বর ২২ ১৯৬৩[৬] ডেমোক্রেটিক লিন্ডন বি. জনসন ৪৪
৩৬ লিন্ডন বি. জনসন Lyndon B. Johnson.jpg নভেম্বর ২২ ১৯৬৩ জানুয়ারি ২০ ১৯৬৯ ডেমোক্রেটিক শূন্য
হুবার্ট হাম্ফরে ৪৫
৩৭ রিচার্ড নিক্সন Rn37.jpeg জানুয়ারি ২০ ১৯৬৯ আগস্ট ৯ ১৯৭৪[৪] রিপাবলিকান স্পিরো অ্যাগনিউ ৪৬
স্পিরো অ্যাগনিউ[৪]
শূন্য
জেরাল্ড ফোর্ড
৪৭
৩৮ জেরাল্ড ফোর্ড Gerald Ford.jpg আগস্ট ৯ ১৯৭৪ জানুয়ারি ২০ ১৯৭৭ রিপাবলিকান শূন্য
নেলসন রকফেলার
৩৯ জিমি কার্টার 100px জানুয়ারি ২০ ১৯৭৭ জানুয়ারি ২০ ১৯৮১ ডেমোক্রেটিক ওয়াল্টার মন্ডেল ৪৮
৪০ রোনাল্ড রেগান Official Portrait of President Reagan 1981.jpg জানুয়ারি ২০ ১৯৮১ জানুয়ারি ২০ ১৯৮৯ রিপাবলিকান জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ৪৯
৫০
৪১ জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ George H. W. Bush, President of the United States, 1989 official portrait (cropped).jpg জানুয়ারি ২০ ১৯৮৯ জানুয়ারি ২০ ১৯৯৩ রিপাবলিকান ড্যান কোয়ায়েল ৫১
৪২ বিল ক্লিনটন Bill Clinton.jpg জানুয়ারি ২০ ১৯৯৩ জানুয়ারি ২০ ২০০১ ডেমোক্রেটিক আল গোর ৫২
৫৩
৪৩ জর্জ ডব্লিউ বুশ George-W-Bush.jpeg জানুয়ারি ২০ ২০০১ জানুয়ারি ২০ ২০০৯ রিপাবলিকান ডিক চেনি ৫৪
৫৫
৪৪ বারাক ওবামা Official portrait of Barack Obama.jpg জানুয়ারি ২০ ২০০৯ জানুয়ারি ২০ ২০১৭ ডেমোক্রেটিক জো বাইডেন ৫৬
৫৭
৪৫ ডোনাল্ড ট্রাম্প Donald Trump Pentagon 2017.jpg জানুয়ারি ২০ ২০১৭ বর্তমান পদাধিকারী রিপাবলিকান মাইক পেন্স ৫৮

আরও দেখুন